নানা অব্যবস্থাপনার কারণে রাজশাহী নগরে মুখ থুবড়ে পড়েছে পুলিশের ই-ট্রাফিকিং প্রসিকিউশন প্রসেস। অথচ আট মাস আগে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে ডিজিটাল এই ট্রাফিক ব্যবস্থার উদ্বোধন করেছিল রাজশাহী মহানগর পুলিশ (আরএমপি)। বলা হয়েছিল, ই-ট্রাফিকিং প্রসেসে ভোগান্তি কমবে গাড়ির মালিক ও চালকদের। কিন্তু পরিস্থিতি এখনও আগের মতোই।

এখনও আরএমপির ট্রাফিক বিভাগের সব সার্জেন্টের হাতে পৌঁছেনি ই-ট্রাফিকিং প্রসিকিউশন প্রসেসের যন্ত্র। ফলে এখনও ট্রাফিক আইনের মামলা হয় আগের মতোই সনাতন পদ্ধতিতে।

উদ্বোধনের পর কয়েকটি যন্ত্রে দেখা দিয়েছে ত্রুটি। তবে যে কয়টি যন্ত্র চালু রয়েছে সেগুলোতে ই-ট্রাফিকিং সম্ভব হয়। কিন্তু এ পর্যন্ত ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সার ক্ষেত্রে ই-ট্রাফিকিং চালু হয়নি। অথচ রাজশাহীতে সবচেয়ে বেশি রয়েছে অটোরিক্সা। ট্রাফিক আইনও সবচেয়ে বেশি লঙ্ঘন করে তিন চাকার এই পরিবহনটি। ট্রাফিক বিভাগের দায়ের করা মামলার জরিমানা আধুনিক পদ্ধতিতে সহজে আদায় করতে গত বছর ৯ মে আরএমপির সঙ্গে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) ও গ্রামীণফোনের চুক্তিপত্র সই হয়। আরএমপির তৎকালীন পুলিশ কমিশনার মাহবুবর রহমান চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেন। তার বদলির পর ওই বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর আরএমপির তৎকালীন কমিশনার একেএম হাফিজ আক্তার আনুষ্ঠানিকভাবে ই-ট্রাফিকিং প্রসিকিউশন প্রসেসের উদ্বোধন করেন। কিন্তু বর্তমান পুলিশ কমিশনার হুমায়ুন কবীরের আমলে আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থায় আর গতি আসেনি।

অথচ ই-ট্রাফিকিং প্রসিকিউশন প্রসেসের উদ্বোধনের সময় আরএমপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, জরিমানার টাকা পরিশোধ করতে চালক বা গাড়ির মালিকদের আর হয়রানি হতে হবে না। তাদের নির্দিষ্ট সময়ে ট্রাফিক অফিসে গিয়েও জরিমানার টাকা পরিশোধ করতে হবে না। ই-ট্রাফিকিং প্রসিকিউশন ব্যবস্থার মাধ্যমে সঙ্গে সঙ্গেই জরিমানা পরিশোধ করে তারা রসিদ নিতে পারবেন। এর মাধ্যমে ট্রাফিক সেবার মান বৃদ্ধি পাবে। আর ভোগান্তি কমবে চালক ও মালিকদের। তবে অব্যবস্থাপনার কারণে এখনও ট্রাফিক বিভাগের বেশিরভাগ মামলা হয় আগের মতো সনাতন পদ্ধতিতেই। চালক ও মালিকদের এখনও মামলার জরিমানার টাকা পরিশোধ করতে যেতে হয় ট্রাফিক অফিসে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে সেখান থেকে সংগ্রহ করতে হয় মামলার কাগজপত্র। ফলে উদ্বোধনের আট মাস পরেও তাদের ভোগান্তি কমেনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহী মহানগরীর উপকণ্ঠ আমচত্বর, বালিয়া ও কাটাখালি এলাকায় সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকে ট্রাফিক পুলিশ। এই তিন এলাকাতেই সবচেয়ে বেশি মামলা হয়। তবে এসব এলাকায় নেই ইউসিবি ব্যাংকের ইউ ক্যাশ এজেন্ট। ফলে সেখানে ডিজিটাল পদ্ধতিতে মামলা দেয়া হলেও চালকরা ঘটনাস্থলেই জরিমানার অর্থ পরিশোধ করতে পারেন না। ফলে ঘটনাস্থলেই মামলা শেষ হয় না। ট্রাফিক বিভাগের এমন অব্যবস্থাপনার কারণে ই-ট্রাফিকিং প্রসিকিউশন প্রসেস মুখ থুবড়ে পড়ে রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরএমপির একজন ট্রাফিক সার্জেন্ট বলেছেন, ইসিবি ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী, মহানগর এলাকার ২৫টি স্থানে ব্যাংকটির ইউ ক্যাশ এজেন্ট পয়েন্ট স্থাপন করার কথা ছিল। কিন্তু তারা যেসব এলাকায় অভিযান চালান তার বেশিরভাগ এলাকাতেই এখনও পয়েন্ট স্থাপন হয়নি। এছাড়া শুরুতে ১৩টি মেশিন দিয়ে ই-ট্রাফিকিং কার্যক্রম শুরু করা হয়েছিল। এর মধ্যে কয়েকটি মেশিনে ত্রুটি দেখা দিয়েছে। নতুন করে সার্জেন্টদের আর মেশিন দেয়া হয়নি। ফলে কার্যক্রম চলছে এখনও পুরনো পদ্ধতিতেই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোন মন্তব্য করতে চাননি আরএমপির ট্রাফিক বিভাগের সহকারী কমিশনার সালমা সুলতানা আলম। তবে তার দফতরের ট্রাফিক পরিদর্শক মোফাক্কারুল আলম বলেন, ডিজিটাল ট্রাফিক ব্যবস্থায় গতি আনতে আরও কয়েকটি ই-ট্রাফিকিং প্রসিকিউশন প্রসেস যন্ত্র আনা হয়েছে। সেগুলো দ্রুতই সার্জেন্টদের হাতে হাতে দেয়া হবে। তখন কার্যক্রমে গতি আসবে বলেও মনে করেন তিনি।

Please follow and like us:

মন্তব্য করুন

A PHP Error was encountered

Severity: Core Warning

Message: PHP Startup: Unable to load dynamic library 'imagick.so' (tried: /opt/alt/php72/usr/lib64/php/modules/imagick.so (libMagickWand-6.Q16.so.2: cannot open shared object file: No such file or directory), /opt/alt/php72/usr/lib64/php/modules/imagick.so.so (/opt/alt/php72/usr/lib64/php/modules/imagick.so.so: cannot open shared object file: No such file or directory))

Filename: Unknown

Line Number: 0

Backtrace: